হাদিসের আলোকে অভাব অনটন দূর করার উপায় || Islamic Education with hadith
হাদিসের আলোকে অভাব অনটন দূর করার উপায় || Islamic Education with hadith
হাদিসের শিক্ষা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অতীব জরুরি। আমরা আজকে জনার চেষ্টা করবো যে, কীভাবে আমরা আমাদের অভাব অনটন দূর করতে পারি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: এর হাদিসের আলোকে অভাব অনটন দূর করার উপায় সম্পর্কে আজকের আলোচনা। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে। আমরা কিছু হাদিস পোস্ট করার মাধ্যমে আপনাদের চিন্তার দ্বার খোলে দেয়ার চেষ্টা করি মাত্র।
হাদিস hadith -০১
নবী করিম সা: বলেছেন- যে ব্যক্তি জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে, তার জন্য 05 টি পুরস্কার রয়েছে।
(পুরস্কার 05 টি হলো)-
- দুনিয়াতে তার অভাব- অনটন থাকবে না, সে (এক আললাহ ছাড়া ) কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না।
- আল্লাহ তায়ালা তার কবর আযাব মাফ করে দিবেন।
- তার আমলনামা ডান হাতে দিবেন।
- সে বিজলীর মতো পুলসিরাত পার হয়ে যাবে।
- আল্লাহ তায়ালা তাকে আজাব ও হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
আলোচ্যে হাদিসের মাধ্যমে আমরা নিয়মিত নামাজ আদায়ের দ্বারা আমাদের দুনিয়ার অভাব অনটন ও পরকালের মুক্তির গ্যারান্টি পেলাম। আশা করি আমরা সবাই জামাতের সাথে 05 ওয়াক্ত নামায আদায়ের মাধ্যমে সাহয্য চাইবো আল্লাহর নিকট। এতে করে আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তি লাভ সম্ভব হবে।
হাদিস hadith -০২
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: হতে বর্ণিত, যখন কেয়াতের দিন আসবে তখন আল্লাহ তায়ালা এমন এক সম্প্রদায়কে উঠাবেন, যাদের চেহারা তারকার ন্যায় উজ্বল থাকবে। ফেরেশতাগণ জিজ্ঞাস করবেন তোমরা দুনিয়াতে কি আমল করেছো?
তারা উত্তরে বলবে- আমরা আজান শুনার সাথে সাথে ওজু করার জন্য উঠে যেতাম, অন্য কোনো কাজে লিপ্ত থাকতাম না।
দ্বিতীয় এক সম্প্রদায়কে ঐদিন উঠাবেন, যাদেরচেহারা ফুটফুটে চাদের ন্যায় আলোকময় থাকবে। ফেরেশতারা একই প্রশ্ন জিজ্ঞাস করলে, তারা উত্তরে বলবে- আমরা আজানের পূর্বেই ওজু করে নামাজের জন্য তৈরি থাকতাম।
তারপর তৃতীয় একটি দল উঠাইবেন, যাদের চেহারা সূর্যে্যর মতো ঝলক মারতে থাকবে। তাদের আমল সমপের্কে জিজ্ঞাস করা হলে, তারা উত্তর দিবে- আমরা মসজিদে গিয়ে আজান শুনতাম।
hadith হাদিসের শিক্ষা:
আলোচ্য হাদিস থেকে আমরা এই শিক্ষা নিতে পারি যে, মসজিদে গিয়ে, জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা অনেক ফজিলতময়। তাই আমাদের প্রত্যেকের জন্য এটি জরুরি যে, আমরা আজান শুনা মাত্রই জামাতে নামাযের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবো এবং জামাতের সাথে নামাজ আদায় করবো। এ সময় অন্য কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো না।
হাদিস hadith -০৩:
রাসূল পাক (সা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আল্লাহ তায়ালা বলেন- 03 টা জিনিসকে যে ব্যক্তি হেফাজত করবে সে নিশ্চয়ই আমার ওলী হবে। আর যে ব্যক্তি এগলো ছেড়ে দিবে, সে আমার দুশমন হবে। জিজ্ঞাস করা হলো- হে আল্লাহর রসূল, ঐ জিনিসগুলি কি কি? হুজুর সা: বললেন- রোজা, নামাজ ও ফরজ গোসল। তারপর বললেন - উক্ত জিনিস গুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি আমানত স্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা উক্ত জিনিসগুলো হেফাজতের নির্দেশ করেছেন। ( দুররাতুন নাছিহীন)।
হাদিসের শিক্ষা:
আমাদের সমাজে এমন অনেক লোক আছে, যারা ফরজ গোসলের হুকুম ও নিয়মই জানেন না, আমরা আলোচ্য হাদিসের গুরুত্ব অনুধাবন করে সে অনুযায়ী রোজা, নামাজ ও ফরজ গোসলের আহকাম জেনে তার উপর আমল করতে হবে। অন্যথায়- আল্লাহর দুশমন হিসাবে সাব্যস্থ হতে হবে। নাউজুবিল্লাহ !
শেষকথা:
আজকের আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে আমরা বলতে চাই - কোরান মাজিদের জ্বলন্ত ব্যখ্যা হলো- হাদিসে রাসূল সা:। তােই আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তোলার জন্য হাদিসের শিক্ষা ছাড়া বিকল্প কী হতে পারে?
আমরা আজকে আলোচিত হাদিসত্রয় এর আলোকে আমাদের জীবন পরিচালনার জন্য চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় দুনিয়া ও আখেরাতে আমরা ব্যার্থ হিসাবে পরিগণিত হবো। আমরা কঠিন আজাবের সন্মুখীন হবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাউফিক দান করুন।
%20(4).png)