বেপর্দা স্ত্রীর কারণে স্বামীর উপর আজাব হবে কিনা? চলুন জেনে নিই হাদিস থেকে
বেপর্দা স্ত্রীর কারণে স্বামীর উপর আজাব হবে কিনা? চলুন জেনে নিই হাদিস থেকে
বেপর্দা স্ত্রীর জন্য স্বামীর উপর আজাব হবে কিনা? হযরত ওসমান রা: থেকে বর্ণিত আচে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা:) এর নিকট শুনেছি, যদি কোনো মেয়েলোক আপন স্বামীকে বলে তোমার নিকট থেকে কোনো দিন ভাল কিছু দেখলাম না, তবে আল্লাহ তায়ালা তার 70 বছরের নেক আমল ধ্বংস করে দেন, যদিও সে দিনের বেলায় রোজা রাখে আর রাতে ইবাদাতে মশগুল থাকে।
এমনি ভাবে স্ত্রীর বেপর্দা চলাচলের জন্যও রাসুল (সা:) এর হাদিস দ্বারা বুঝা যায়- ঐ স্ত্রীর স্বামীর উপর আজাব হবে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন- কোনো মেয়েলোক যখন সুসজ্জিত অবস্থায় এবং সুবাসিত হইয়া বাহির হয় আর তার স্বামীও উহাতে রাজী থাকে, তখন তার স্বামীর জন্য প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে জাহান্নামে একটা করে ঘর তৈরি হয়। --- আল হাদিস।
উত্তম স্ত্রী কে?
নবী করিম (সা:) বলেন- যে স্ত্রী তার স্বামীকে দেখলেই খুশি হয়ে সামনে হাজির হয় এবং মারহাবা বলে সন্তুটি প্রকাশ করে, সে জেহাদের অর্ধেক সওয়াব পাবে।
অন্য হাদিসে এসেছে, নবী পাক (সা:) বলেন- স্ত্রীকে সংগম সুখে সুখী করা উত্তম ছদকা।
অন্য হাদিসে এসেছে- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেন- স্বামী যখন বিবিকে ডাকবে, স্ত্রী তখনই এসে হাজির হতে হবে, যদিও সে চুলার নিকট (খাদ্য বানোনোর কাজে ) থাকে।
স্ত্রীলোকদের জন্য গুরত্বপূর্ণ হাদিস:
বর্ণিত আছে যে, একদা একজন মহিলা নবী (সা:) এর নিকট হাজির হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন- হুজুর, স্ত্রীর উপর স্বামী কি হক আছে? নবী করিম (সা:) বললেন- স্বামী যদি উটের পিছে চলন অবস্থায়ও স্ত্রীকে সহবাসের জন্য ডাকে তবুও তার ডাকে সাড়া দেওয়া উচিৎ। আর স্ত্রী, স্বামীর অনুমতি ব্যতিত নফল রোজা রাখবে না এবংতার অনুমতি ছাড়া বাহিরে যাবে না। যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ব্যতিত বাহিরে যায়, তা হলে সে স্ত্রী ঘরে ফিরে আসা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার উপর অভিশাপ করতে থাকে।
পরহেজগারিতা অজনের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পড়ুন আমাদের অন্য একটি পোস্ট।
স্বামী অসন্তুষ্ট থাকলে স্ত্রীর কোন ইবাদাতই কবুল হয় না:
হযরত ছালমান ফারসি (রা:) হতে বণির্ত আছে, তিনি বলেন- একদা ফাতেমা রা: রাসুল (সা:) এর নিকট আসলেন। যখন নবী (সা:) তার দিকে তাকাইলেন তখন তার অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল এবং চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। নবী (সা:) জিজ্ঞাস করলেন- হে প্রণের দুলালী, তোমার কি হয়েছে? হযরত ফাতেমা রা: উত্তর দিলেন- গত রাত্রে আমার স্বামী এবং আমার মধ্যে মধুর আলাপ হচ্ছিল। হঠাৎ আমার মুখ থেকে েএকট কথা বাহির হয়ে গেল যা শুনে হযরত আলী (রা:) রাগান্বিত হলেন। তখন আমি লজ্জিত ও চিন্তিত হয়ে বললাম- হে প্রিয় স্বামী, আমার উপর খুশী হোন। অতপর আমি তার চারদিকে সাত বা চক্র দিলাম। শেষ পর্যন্ত তিনি আমর উপর রাজী হয়ে গেলেন এবং সন্তুষ্ট চিত্তে আমার সামনে হাসিয়া পড়লেন কিন্তু আমি আমরা প্রতিপালককে ভয় করছি। ইহা শুনে রাসুল (সা:) বললেন- হে আমার আদরের দুলালী, ঐ সত্বার শপথ যিনি আমাকে সত্য নবী করে প্রেরণ করেছেন, তুমি যদি তোমার স্বামীকে খুশী করার পূর্বে ইন্তেকাল করতে তা হলে আমি তোমার জানাজার নামায পড়তাম না।
অতপর নবী (সা:) বললেন- হে আমার মেয়ে, তুমি জেনে নাও, স্বামীর সন্তুষ্টিতেই আল্লাহ সন্তুষ্ট আর স্বামীর অসন্তুষ্টিতেই আল্লাহ অসন্তুষ্ট। হে আমার মেয়ে, যদিও কোন স্ত্রী হযরত মরিয়াম আ: এর মতো ইবাদাত করে আর স্বামী তার উপর অসন্তুষ্ট থাকে তবুও আল্লাহ পাক তার ইবাদাত কবুল করবেন না। .....
--- আল হাদিস।
উপসংহার:
শেষে আমরা হাদিসের শিক্ষার আলোকে বলতে পারি- বিবাহিত মহিলাদের জন্য পরম শ্রদ্ধার জায়গা তার স্বামী। আল্লাহর সাথে শিরক ছাড়া প্রায় সকল ক্ষেত্রে তারা তার স্বামীর অনুগত্য করতে বাধ্য। তাই সত্রী লোকদের জন্য অতীব জরুরি বিষয় হলো- স্বামী সন্তুষ্টি অর্জন। কেননা স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জন ব্যতিত আল্লাহর ইবাদাত কবুল হয়না। তাই আমাদের উচিৎ আলোচ্য হাদিসগুলোর অনুসারে জীবন যাপন করা। অন্যথায় আমরা আল্লাহর রাসূল (সা:) এর শাফায়াত হবে বঞ্চিত হতে পারি।
%20(1).png)